রাসূল স. এর যুগ থেকে শুরু করে ১৭৫৭ ইং সাল পর্যন্ত খিলাফতে রাশেদা, খিলাফতে বনী উমাইয়্যাহ, খিলাফতে অব্বাসিয়াহ , খিলাফতে উসমানিয়াহ ও মুঘল শাসন সহ প্রতিটি মুসলিম শাসনামলে ইসলামী শিক্ষার সিলেবাস ছিল যুগোপযোগী। ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা একই ছাউনীর নিচে দেওয়া হত। একই মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক দিকে যেমন আব্দুল কাদের জিলানী ও হাসান বসরী র. এর মত আধ্যাতিক প্রাণ পুরুষ বের হয়েছে , ইমাম ইবনে কাসীর , ইমাম তাবারী, ইমাম কুরতুবী র. এর মত মুফাসসির তৈরী হয়েছে, ইমাম জাহাবী ও ইবনে হাজার আসক্বলানীর মত মুহাদ্দিস তৈরী হয়েছে, ইবনে খালদুন ও ইবনে হিশামের মত ইতিহাস বিদ তৈরী হয়েছে। অন্য দিকে একই মাদরাসা থেকে তৈরী হয়েছে উমার ইবনে আবদুল আজীজ ও বাদশা আলমগীরের মত ন্যায় নিষ্ঠাবান শাসক ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালক, কাজী অবু ইউসুফের মত বিজ্ঞ বিচারপতি, ইবনে সীনা , আল-বিরুনী, জাবির ইবনে হাইয়্যান, মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমীর মত বড় বড় বিজ্ঞানী। এর পর বৃটিশ আমল থেকে শিক্ষা দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়। অধুনিক শিক্ষা চলে যায় স্কুল কলেজ ক্যাম্পাসে আর ইসলামী শিক্ষা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে মাদরাসার গণ্ডির ভিতরে। এর পর পরিণতি যা হয়, তা মোজাহেদে অজম অল্লামা শামছুল হক্ব ফরীদপুরী (সদর সাঃ রঃ) ছোট একটি বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন , তিনি বলেন “ ধর্মহীন কর্ম শিক্ষা এবং কর্মহীন ধর্ম শিক্ষা জাতীকে পঙ্গু করে দিয়েছে।” মুফতী মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী র. বলেন -“ দীন ও দুনিয়ার শিক্ষা যেদিন থেকে বিভাজিত হয়েছে , সেদিন থেকে উম্মাহ’র দূর্ভাগ্যা শুরু হয়েছে ” তাই আমরা যাত্রা শুরু করেছি একটু ভিন্ন রকম পথ ধরে ব্যতীক্রম ধর্মী পরি কল্পনা নিয়ে। আমাদের মাদরাসা কোনো গতাণুগতিক প্রতিষ্ঠান নয়, এখানের পাঠ্যক্রমে রয়েছে পরিপূর্ণ ক্বওমী সিলেবাসের সাথে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসভুক্ত অধুনিক আরবী, আরো অতিরিক্ত অনেক কিছু। পাশাপাশি রয়েছে ইংলিশ ভার্সন ন্যাশনাল কারিকুলাম। আল্লাহু রব্বুল আলামীন অমাদের সুপরিকল্পনা ও শুভ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন।
অমীন